Aman PaddyMiscellaneous 

শিলিগুড়িতে হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির ধান চাষে সাফল্য

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বাংলার পাতে আবার ফিরে আসতে চলেছে সরু দানার চাল ‘চমৎকার’। সূত্রের খবর, এই ধানের নাম কেরল সুন্দরী। একসময় কেরল থেকে আনা হত এই ধানের বীজ। সামান্য মোটা ও কালচে এই ধানের চাল থেকে দারুণ ভাত তৈরি হত। জানা যায়, বাংলায় এই চালের কদর ছিল। ভোজনেও তৃপ্ত করত বঙ্গবাসীকে। আবার বাংলার নিজস্ব চাল হিসাবেও পরিচিতি তৈরি হয়েছিল এই ধান। এরপর হাইব্রিড ধানের রমরমা শুরু হয়। তারপর হারিয়ে যায় কেরল সুন্দরী। সূত্রের আরও খবর, রাজ্য কৃষি দপ্তরের প্রয়াসে কেরল সুন্দরী আবারও ধানের খেতে দেখা যাচ্ছে। নতুন করে ফের কৃষকরা কেরল সুন্দরীর চাষ শুরু করেছেন। সরকারিভাবে জানা গিয়েছে, এই বীজ জোগানো দিচ্ছে সরকারি বীজ খামার।

পাশাপাশি কেরল সুন্দরী ছাড়াও নতুন করে বাংলার ধানের খেতগুলিতে ফিরে আসছে রাধা তিলক, কালো ভাত, চমৎকার, বহুরূপী, অগ্নিবাণ-সহ একাধিক ধান। এক্ষেত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক বছরের পুরনো বীজকেই গবেষণাগারে আধুনিক হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ধানের মোটা দানা এখন বদলে পরিণত হয়েছে সরু চেহারায়। এই সমস্ত ধান চাষের ক্ষেত্রে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। সার দেওয়া হলে উৎপাদনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা। অন্যদিকে সারহীন এই সমস্ত ধান ক্রেতাও বেশি কিনছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির শালবাড়িতে সরকারি বীজ খামারে এই সব প্রাচীন ধানের বীজকে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরে শিলিগুড়িতেই এই সমস্ত হারিয়ে যাওয়া বাংলার নিজস্ব ধানের চাষ শুরু হয়েছে। প্রাচীন এই সমস্ত বীজ দিয়ে ধান চাষ করেন, এমন কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ডাক পড়ছে রাজ্যের অন্য জেলাতেও। শিলিগুড়ির কৃষি দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির ধান চাষে সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। কৃষকেরা এই সব ধান চাষ করে সন্তোষ প্রকাশও করেছেন। বাজারে ভাল দামও মিলছে। এ বিষয়ে আরও জানা গিয়েছে, বাসমতী ছাড়া বাজারে অন্যান্য চালের গড় দাম প্রতি কেজি ৪০ টাকা। অন্যদিকে পুরনো প্রজাতির এই সব ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১০০ টাকায়। এই সব বীজ আনা হয়েছে নদিয়ার ফুলিয়া থেকে। সেখানকার সরকারি বীজ খামারে পশ্চিমবঙ্গের সব ধরনের বীজ সংরক্ষণ করাও রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment